প্রতিদিন লিখি প্রাণের ভাষায়, বাংলা আর্টিকেল পোর্টাল

জীবন যখন উপভোগ্য

কেউ কাজ করে টাকা আয় করার জন্য তারপর সেই টাকা ব্যায় করে উপভোগ করার জন্য। আর কারো জন্য তার কাজটাই যখন উপভোগ্য তখন কোন হাঙ্গামা নেই।

প্রতিদিন অফিস ৮ ঘন্টা, আসতে যেতে আরো ২ ঘন্টা। ১০ ঘন্টা প্রেসার নেয়ার পর মন মেজাজ ,শরীর কি আর ঠিক থাকে, পরিবারের সাথে, সন্তানদের সাথে কাটানো সময়টাও উপোভোগ করা যায় না। অফিস থেকে ফিরে একটু টিভি দেখা বড়জোর সবাই মিলে একসাথে খাওয়া তারপর ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পরা। বিনোদোন বলতে ছুটির দিনে পরিবারের সাথে ঘুরতে যাওয়া, শপিং করা কিংবা দামি রেস্ট্রুরেন্টে খেতে যাওয়া এটুকুই। হয়তো প্রতি সপ্তাহে ৮-১০ ঘন্টা উপোভোগ করেন আর বাকীটা পুরোই বিরক্তিকর। হয়তো এই রকমই অনেকের জীবন। যেখানে ভাল থাকা, উপভোগ করাটাই মূল ব্যপার সেখানে আমরা ছুটছি টাকার পিছনে, কারণ টাকা দিয়েই উপভোগ কেনা যায়, ভাল থাকার উপলক্ষ্য কেনা যায়।

এমনটাওতো হতে পারতো, একটু নাটকীয়ভাবেই বলি।

আকাশ নামের ছেলেটি ভার্সিটির ছাত্র থাকা অবস্থায় সে তার মেধা খাটিয়ে এটা সেটা ডিজাইন করতো, সেগুলো পাশের ওয়ার্শকপে গিয়ে তৈরি করতো আর জোড়াতালি দিয়ে কি সব মেশিন টেশিন বানাতো। পাশ করতে না করতে একটা কম্পানিতে চাকড়ির অফার পেলো। যেখানে ঐ মেশিন ডিজাইন করাটাই ছিলো তার কাজ। বেশ কয়েক বছর হয়ে গেছে, যেখানে ওর বন্ধুরা কয়েকটা চাকড়ি বদল করে ভাল বেতন পাচ্ছে সেখানে ও বেটা এখনো ঐ কম্পানিতেই পরে আছে। কিন্তু কি জানেন আকাশ সারাদিন যখন কাজ করে সৃষ্টির অনন্দে মেতে থাকে। আকাশের নিজের গাড়ি নেই প্রতিদিন অফিসের গাড়িতে কলিগদের সাথে গল্প করতে করতে আড্ডা দিতে দিতে বাড়ি ফেরে। বাড়ি ফেরার পর গোসল করে ফ্রেস হয়ে সব ক্লান্তি ঝেরে ফেলে পরিবারের সাথে চা বা কফির আড্ডা তারপর ছেলের সাথে সময় কাটানো, পড়ালেখায় সাহায্য করা, খেলতে খেলতে এটা সেটা বানানো শেখানো, বউ এর সাথে ফ্যামিলি প্লানিং অথবা নতুন কিছু শেখা আর সবশেষে সবাই মিলে একসাথে খাবার টেবিলে খেয়ে শান্তির ঘুম। ক্লান্তি বলে কিছু নেই, বিরক্তি বলেও কিছু নেই, পুরোটাই উপভোগ্য । জীবন তো এমনটাই হওয়া উচিৎ।